কম্পিউটার ভাইরাস কি ? কম্পিউটার ভাইরাসের কারণ,ক্ষতি ও প্রতিকর।

  হ্যালো, লোকজন কি অবস্তা আসা করি সবাই ভাল আছেন। আমিও ভালো আছি, তো আমরা আজকের আলোচনা করবো VIRUS নিইয়ে। 

আসলে ভাইরাস নাম টার সাথে, মুটা মুটি আমরা সবাই পরচিত, তো আপনাদের সাথে ছোট্ট  একটা গুল্প শেয়ার করি,  যেটা আমার সাথে ঘটছে  রিছেন্টলি। তো এই নিয়ে আজকের আরটিকেল টা।

 বন্দু সাইফ এক দিন আমার বাসাই এসে বললো সাব্বির আমার মেমরিটা একটু লোড দিয়ে দে তো, 

আমি বললাম বয় তুই দেখছি, দেন ওর মেমরি টা আমার পিসি তে ঢুকালাম বেশ ভালো কথা,ফ্লিম,নাটক,ভিডিও এগুলাই দিলাম। দেখি সাধারন এর তুলনাই Copy টা বেশ Solow,আমি  বললাম গুরু তোর মেমোরি এতো Solow কেনো। আমি আবার ওরে গুরু বলে ডাকি, তার পর ও বললো তাতো জানি না, কিছুক্ষন পর, Copy শেষ হোল আমি ওর মেমরি টা খুলে ওরে দিয়ে দিলাম। ও চলে গেল, ভাবলাম আল্লাহ বাচাইছে, কিছুক্ষন পর দেখি ওমা পিসি টা বেশ Solow,হয়ে গেছে, ঠিক ঠাক কাজ করছে না, আমি তো পড়লাম মহা বিপদে, পিসি টা Resetদিলাম,দেখি কি হয়। কাজের কাজ কিছুই হয়লো না,আরো Solow হয়ে গিছে,আমি দ্রুত পিসি ' র হার্ড ডিস্ক ফরমেট দিলাম।দেন নিউ করে Windows দিলাম। তার পর পিসি টা আগের মতই ঠিক ঠাক,আমিও একটা গভীর শ্বাস নিলাম।

আসলে ওর মেমোরি তে সংক্রমিত ভাইরাস টি । আমার পিসি তে ঢুকে ফাইল বা প্রোগ্রাম গ্রাস করতে করতে ভাইরাস তার ইছামতো সার্বক ক্ষতিসাধন শুরু করে। এই জন্যই আমার পিসি টা  ধিরে ধিরে Solow হয়ে যাচ্ছিল।


কম্পিউটার ভাইরাস কি ?  কম্পিউটার ভাইরাসের কারণ,ক্ষতি ও প্রতিকর।

কম্পিউটার ভাইরাস কাকে বলে ? 

কম্পিউটার ভাইরাস এর বিষয়ে আমরা অনেক কিছুই ইত:পূর্বে জেনে ফেলেছি। তবু ও আমাদের আরও জানা আবশ্যক। প্রাণীদেহে ভাইরাস আক্রমণ করলে ধিরে ধিরে যেমন অসুস্থ হয়ে যাই। 

 ঠিক তেমনি এ VIRUS গুলো আমাদের কম্পিউটার এর জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।

এই ভাইরাস টা কম্পিউটার ব্যাবহার কারির পারমিশন ছাড়াই তার অজান্তে কম্পিউটার কে সংক্রমিত করে অচল করে দেয়। Virus কম্পিউটার এ প্রবেশ করলে সাধারণত সংখ্য বৃদ্ধি করতে থাকে ও বিভিন্ন প্রোগ্রাম,ফাইলে এ আক্রমণ করে। এক পর্যায় গোটা কম্পিউটার কে সংক্রমিত করে অচল করে দেই। এই ক্ষতি কারক প্রোগ্রাম টা কম্পিউটার ভাইরাস।


ভাইরাস শব্দের পূর্ণরূপ। Full form of the virus

ভাইরাস শব্দের পূর্ণরূপ হলোঃ- Vital Information Resources Under Siege . যার অর্থ হচ্ছে গুরুত্ব পূর্ন তথ্যসমূহ দখলে নেওয়া বা ক্ষতি সাধন করা।  

কে ভাইরাস এর নাম করণ করেন কে ?  

১৯৮০ সালে প্রখ্যাত গবেষক  'University of New Haven' এর অধ্যাপক ফ্রেড কোহেন (Fred Cohen) কম্পিউটার এর ক্ষতি কারক প্রোগ্রাম এর নাম করণ করেন ভাইরাস।

কম্পিউটার নিবাসী ভাইরাস কাকে বলে ?

নিবাসী ভাইরাস এটা ও  কম্পিউটার ক্ষতিকারক প্রোগ্রাম, যে টা আপনার কম্পিউটার এ ঢুকে বসে থাকে, আপনি যখোন কম্পিউটার এ কাজ করবেন, এটা তখোনি আপনার কম্পিউটার  কে আক্রমণ করবে। নিবাসি ভাইরাস অবিরত  ভাবে বসবাস করে। 

কম্পিউটার অনিবাসী ভাইরাস কাকে বলে ?

কম্পিউটার এ দীর্ঘস্থায়ী ভাবে বসবাস না করে, কোন একটা Targeted, File, কে আক্রমণ করে, তার পর আস্তে আস্তে নিষ্ক্রিয় হয়ে, যায় এটা কে 

Computer ভাইরাস কয় প্রকার ও কি কি? 

কিছু পপুলার ভাইরাস নিম্নে আলোচনা করা হলো।

Spyware:

 কম্পিউটার  হার্ডওয়্যার এ তেমন কোন ক্ষতি করে না। (Spyware) এর মূল উদ্দেশ্য  কম্পিউটার থেকে ব্যাবহার কারির মূল কার্জ ট্রার্ক করা ও ইনফর্মেশন চুরি করা,(Spyware) Computer এ ঢুকে আপনার অজান্তে ইনফর্মেশন গুলা কালেক্ট করে। এবং  তা সেন্ড করে।  

Spyware আপনার কি কি ক্ষতি করতে পারেঃ- আপনার সার্চ হেবিড দেখে, আপনি কি কি সার্চ করে ছেন এগুলাই কি লগিং এর মাধ্যমে পাসওয়ার্ড ট্রার্ক করে। এ ছাড়া ক্রেডিট কার্ডের নাম্বার ইত্যাদি।

Trojan Horse:

এটা একটা ছদ্দবেশি ভাইরাস।  কারণ এটা কম্পিউটার এ প্রবেশ করার আগে,ফ্রেন্ডলি  আচারন করে।যেমন ধরুন বলবে আপনি এতো টাকা জিতেছেন,এক্ষুনি এই লিঙ্ক এ ক্লিক করুন। আবার বলে আপনার কম্পিউটার এ ভাইরাস আছে, এই আপ্পলিকেশন এর মাধ্যমমে রিমুভ করুন। Computer এ স্পিড বুস্ট করুন,মেমরি ক্লিন করুন। ইত্যাদি এ সব হাবি যাবি, আপনি ইনস্টাল করবেন,তখোন Trojan Horse Virus আপনার কম্পিউটার এ ক্ষতি করবে।ট্রোজান হর্স আপনার ইনফর্মেশন কে Hacker এর কাছে দিয়ে দতে পারে। ভাইরস আর ট্রোজান হর্স এর মূল পার্থক্য হোল  Virus নিজে নিজে কপ্পি তৈরি করতে পারে। বাট ট্রোজান হর্স  নিজে নিজে কপ্পি তৈরি করতে পারে না,   Trojan Horse সব সমাই ইউজার এর অজান্তেই পিসি তে ইনস্টল হয়। 

Worms:

 টা ভাইরাস এর মতই আর একটি প্রোগ্রাম, যেটা ইউজার এর হস্তক্ষেপ ছারাই নিজে নিজে কপ্পি তৈরি করে এবং বিস্তার ঘটে কম্পিউটার এর নেটওয়ার্ক  এর মাধ্যমে যেমন ই-মেল ইন্টার ফেছিং , ওয়েব পেজ কিংবা মেসেজ্জিং এর মাধ্যমে।  Worms পিসি তে ঢুকে আস্তে আস্তে ছড়িয়ে পড়ে, এই ভাইরাস টিক টিকির মতোই রঙ চেঞ্জ করে, এবং নিজে দের কোড এমন ভাবে চেঞ্জ করে নেই জে এদের খুজে পায়াই দুষ্কার্য।

Adware: 

এই প্রোগ্রাম কিছু কিছু সফটওয়্যার এর সাথে, এক্সটারা পারট হিসাবে আপনার পিসি তে ইনস্টল হই ।  Adware  আপনার  ইন্টারনেট ব্রউসিং, ও সার্চ হেবিড ট্রাকিং করে। যেমন আপনি কোন ধরনের সাইট ভিসিট করেন,এ গুলা ট্রাক করে। এবং অই যে রিলেটেড সাইট ভিসিট করেছেন ওই সাইটের উপর আপনার অ্যাডভাইটিজমেন্ট পাঠাই বার বার। 

Multipartite Virus: 

এই ভাইরাস টি অনন্য ভাইরাস এর থেকে  ও বেশি ক্ষতি কর ম্যালওয়ার। এ টা খুব দ্রুত ছড়ি য়ে পড়ে, এবং Computer এ থাকা Software গুলোকে ক্রপ্ট করে। ও Boot Sector ও Program File দুটো কে attacked করতে পারে।এই ম্যালওয়ার টা এই কারনে অনন্য কম্পিউটার ভাইরস এর তুনাই বেশি ক্ষতি করে থাকে।

N:B: প্রতি নিয়তো ভাইরাসকারি রা নতুন  নতুন ভাইরাস তৈরি, করেই যাছে। আমদের এ একটু চোক, কান, খোলা রাখ তে হবে।     

কয়েকটি ক্ষতিকর কম্পিউটার ভাইরাসের নাম

ক্ষতিকর ১২ টি ভাইরাস এর তালিকা , যথাক্রমে

  1. মরিস অ্যান্ড কনসেপ্ট
  2. আই লাভ ইউ 
  3. কনফিকার
  4. মেলিসা
  5. ভিয়েনা
  6. স্টোন 
  7. সিআই এইচ
  8. ফোল্ডার 
  9. পিকাচু
  10. মাই ডুম
  11. নিমডা 
  12. স্ট্রম ট্রোজান 

কম্পিটার ভাইরাস আক্রান্ত হওয়ার লক্ষনসমূহ ঃ

ভাইরাস হসছে একটা ম্যালওয়্যার program যে টা আপনার কম্পিউটার এ ঢুকে আপনার পারছোনাল ইনফর্মেশন চুরি করতে পারে। বা আপনার Computer এ ঢুকে  বিভিন্ন প্রগ্রাম,ফাইলে এ আক্রমণ করে। এক পর্জােয় গোটা কম্পিউটার কে সংক্রমিত করে অচল করে দেই। সুতরাং এটা কম্পিউটার এর জন্য একদমি ভালো নয়। 

নিচের এই কারণ গুলা দেখলে, আপনি বুজবেন যে আপনার কম্পিউটার টি ভাইরাস দ্বারা সংক্রামিত।

  • কম্পিউটার এর প্রোগ্রাম ও ফাইল Open করতে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে বাশি সমাই লাগছে।
  • কম্পিউটার এর মেমোরি কম দেখাছে ফলে গতি কমে গেছে।
  • কম্পিউটার এর ফোল্ডার বিদ্যামান ফাইলগুলোর নাম নিজে নিজে  পরিবর্তন হয়ে গিছে। 
  • কম্পিউটার এর চলমান কাজের ফাইল গুলা বেশি জায়গা দখল করে নিছে। 
  • কম্পিউটার ON করার সমায় আগের তুলনাই বেশি সময় নিয়ে ON হচ্ছে।
  • কম্পিউটার এ কাজ করতে করতে হটাৎ বন্ধ হয়ে যাছে।  আবার রিস্টার্ট ও নিচ্ছে।
  • কম্পিউটার এর অনেক সমায় দেখা যাচ্ছে একটি কমান্ড দিয়ে অনেকক্ষণ অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
  • কম্পিউটার ইউএসবি পোর্টে পেইনড্রাইভ ঢুকালে দেখা যাচ্ছে, সব ফাইল শর্টকাট হয়ে গিছে মূল ফাইলে গুলা, কোথাও পাওয়া যাচ্ছে না।   
  • কম্পিউটার এ নতুন করে কিছু ইনস্টালের করতে গেলে আগের তুলনাই বেশি সময় লাগতেছে। 

 ভাইরাস সাধারণত আমাদের কম্পিউটারে যা যা ক্ষতি করতে পারে

  • কম্পিউটারে কাজ করার সমাই হটাৎ Unexpected মেসেজ প্রদর্শন করতে পারে।
  • কম্পিউটারে  save করা File মুছে দিতে পারে। এতে আপনি অবাক হয়ে যেতে পারেন।
  • Data Croft করে দিতে পারে, কম্পিউটার এর জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।
  • কম্পিউটারে মনিটারের Display কে croft করে দিতে পারে, ফলে মনিটারের Display লাইট অন, অফ হতে পারে  হটাৎ  হটাৎ করে।
  • আপনার কম্পিউটার  কে Slow করে দিতে পারে ইত্যাদি।

কিভাবে কম্পিউটার ভাইরাস প্রতিরোধ করা যায়

এই মডার্ন যুগে, ইন্টারনেট ব্যাবহার করেন না। এমোন মানুষ খুবি কম মিলে, প্রযুক্তি  আমাদের কে খুব সহজ করে তুলেছে ঠিকি কিন্তু, অনাকেই আবার এর ভুক্তভুগি,এই জন্য আমাদের আরো জানতে হবে।

আমদের কিছু নিয়ম ফলো করে চলতে হবে।

১। একটা Antivirus software কম্পিউটার ব্যাবহার করবেন,১০০% এটা আপনার কম্পিউটার কে  প্রটেক্ট করবে। বাইরে থেকে ভাইরাস কে প্রবেশ করতে দিবে না । এই Antivirus software টা Premium হলে বেশি ভালো হয়। ফ্রী ভার্সন হলে ও চলবে।

২। ইন্টারনেট তো আপনি অবশ্যই ব্যাবহার করেন, যদি করে থাকেন তাহলে আপনাকে ১০০% ইন্টারনেট নিরাপত্তা অ্যান্টিভাইরাস ব্যবহার করবেন।। আপনি আপনি যখনইন্টারনেট ব্রাউজিং কোরবেন, তখন এটা আপনার ব্রাউজার কে প্রটেক্ট করবে।

৩। কিছু কিছু software Download করার আগে, ভালো ভাবে যাচাই করে দেখবেন, যে ওয়েবসাইট টা  ট্রোস্টেড কি না।

৪। Free software Download করার আগে, ভালো ভাবে যাচাই করবেন, যে ওয়েবসাইট টা  ট্রোস্টেড কি না। আর ক্র্যাক করা  software ব্যবহার করবেন না।

৫। আপনি রেগুলারলি যে কাজ গুলা করেন, পারলে তার একটা Backup রাখুন।

৬।  কম্পিউটার এ পেনড্রাইভ, হার্ড ড্রাইভ বা ইউএসবি ডিভাইস, এ গুলা সংযোগ দেওয়ার আগে, আপনার কম্পিউটার রে Antivirus software টি ইনস্টল করে নিন, ও স্ক্যান করে নিন।

৭। অন্যর পেনড্রাইভ, হার্ড ড্রাইভ বা ইউএসবি ডিভাইস, এ গুলা ফাইল কপ্পি করার আগে। ভাইরাস আছে কি না sure হয়ে নিবেন। দেন সতর্কতা সাথে কপ্পি করবেন।

৮। কম্পিউটার এর অপারেটিং সিস্টেম, কে সব সমাই Up to Date করে রাখতে হবে। 

N:B: আমাদের আরো  সতর্কতা থাকতে হবে ও সেই সাথে এই Bad program, কে চিনতে শিকতে হবে। 

 কম্পিউটার জনপ্রিয় কিছু অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যার

আপনি যদি কম্পিউটার কে সুরক্ষা রাখতে চান তাহলে আপনা কে অবশ্যয়, কম্পিউটার অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যার,
ব্যাবহার করতে হবে। ফ্রী হলে সমস্যা না। কিন্তু premium হলে সব থেকে বেটার হবে।
নিম্নে কিছু ভালো অ্যান্টিভাইরাস  এর নাম দেওয়া হোল।

  • AVAST অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যার।
  • KASPERSKY অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যার।
  • NORTON অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যার।
  • AVG অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যার।
  • AVIRA অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যার।  
  • PANDA অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যার।
  • IMMUNET অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যার।
  • BAIDU অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যার।

 আমি usb protection এর জন্য Smadav অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যার ব্যাবহার করি। আমার কাছে মোটা মুটি ভাল লাগে। চাইলে আপনারা ব্যাবহার করে দেখতে পারেন। 
আর হ্যাঁ কারোর যদি Smadav Pro version free license key লাগে তাইলে কমেন্ট করে জানাবেন। টা,টা।

 

শেষ কথাঃ

এই বিশাল প্রজুক্তির জগতে আমরা কেউ ই শতভাগ নিরাপদ নয়। তারপরও যাতে একটু নিরাপদ থাকা যাই আমাদের সর্বপরি সচেতন থাকতে হবে। জানতে হবে নতুন নতুন টেকনলজি সমর্পকে। এতে করে কিছুটা হলেও আমরা এই বিশাল জগতে আমাদের নিরাপদ রাখতে পারি। তো  এই ছিল আজকের মতো ভাইরাস নিয়ে আমাদের ছোট্ট লেখা। আশা করি আপনাদের ভাললেগেছে। আপনাদের কাছে কেমন লেগেছে জানাতে ভুলবেন না কিন্তু। আর হ্যা কোন ধরণের প্রশ্ন থাকলে কমেন্ট করে জানাবেন আমি চেষ্টা করবো যত দ্রুত সম্ভব আপনার প্রশ্নের উত্তর দিতে। ধন্যবাদ 
Post a Comment (0)
Previous Post Next Post